একটি কিডনি হারানোর পরও অদম্য মানসিক শক্তি ও অধ্যাবসায়ের মাধ্যমে CKRUET-এ ৩৯৯তম স্থান অর্জন করেছেন রাফিদ। দীর্ঘ ১৭ ঘণ্টা সংজ্ঞাহীন থাকার পরও, পরীক্ষায় দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে প্রমাণ করেছেন, সংকট মোকাবিলায় আত্মবিশ্বাস ও অধ্যবসায়ই আসল শক্তি।
অদম্য রাফিদ: এক কিডনিতে বেঁচে থাকার লড়াই ও CKRUET-এ ৩৯৯তম স্থান অর্জন
মানুষের জীবনে কঠিন সময় আসবেই, কিন্তু সেই চ্যালেঞ্জকে জয় করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার নামই জীবন। এমনই এক অনুপ্রেরণামূলক গল্পের নায়ক রাফিদ, যিনি কঠিন অসুস্থতার মধ্যেও নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়নে অবিচল থেকেছেন।
অসুস্থতার শুরু ও দুঃসহ অভিজ্ঞতা
এইচএসসি পরীক্ষার সময় রাফিদ হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। কেমিস্ট্রি দ্বিতীয় পত্রের পর থেকেই তিনি অসহনীয় দুর্বলতা অনুভব করতে থাকেন, ক্রমাগত ঘুমিয়ে যাচ্ছিলেন এবং খাবার খাওয়ার শক্তিও হারাচ্ছিলেন। পরীক্ষার মধ্যেই পরিবারের উদ্বেগ বেড়ে যায়, এবং তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দীর্ঘ পরীক্ষার পর জানা যায়, তার একটি কিডনি বিকল হয়ে গেছে এবং লিভারের এনজাইম লেভেলও স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি।
পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর ছিল যে ডাক্তাররা তাকে সম্পূর্ণ বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু সামনে ছিল গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা, যা তার স্বপ্নপূরণের একমাত্র পথ। মা তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন পরীক্ষা না দেওয়ার জন্য, কিন্তু রাফিদ আত্মবিশ্বাস হারাননি।
সংকল্প ও অধ্যবসায়: কঠিন পরীক্ষার মুখেও লড়াই
শারীরিক দুর্বলতার মধ্যেও তিনি বায়োলজি পরীক্ষা দিতে বসলেন, যদিও একবারও বই উল্টে দেখার সুযোগ পাননি। নিজের দুই বছরের প্রস্তুতির উপর ভরসা রেখে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন এবং আলহামদুলিল্লাহ, অসাধারণ ফলাফল অর্জন করেন।
পরবর্তী সময়ে অপারেশনের কারণে ছয় দিন হাসপাতালে কাটাতে হয় তাকে। এরপর কিছুদিন বিশ্রামের পর তিনি জানুয়ারি থেকে আবার পূর্ণ উদ্যমে পড়াশোনা শুরু করেন। তার আত্মবিশ্বাস ও অধ্যবসায় তাকে CKRUET-এ (চুয়েট, কুয়েট, রুয়েট ভর্তি পরীক্ষা) ৩৯৯তম স্থান অর্জনে সাহায্য করেছে।
একটি শিক্ষা: মনোবল হারানো যাবে না
রাফিদের এই লড়াই আমাদের শেখায়, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা বা যেকোনো প্রতিকূলতা আমাদের স্বপ্নকে থামিয়ে দিতে পারে না, যদি আমাদের মানসিক শক্তি দৃঢ় থাকে। আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে, কঠোর পরিশ্রম ও সংকল্প থাকলে যেকোনো প্রতিকূলতাকে জয় করা সম্ভব।
রাফিদের গল্প কেবলমাত্র একটি অনুপ্রেরণা নয়, বরং যারা জীবনের যেকোনো প্রতিকূলতার মুখোমুখি হচ্ছেন, তাদের জন্য এটি এক উদাহরণ। জীবন কখনোই থেমে থাকে না, লড়াই করলেই সফলতা আসবেই।
শেষ কথা
রাফিদের লক্ষ্য এখন বুয়েটে (BUET) ভর্তির সুযোগ পাওয়া এবং সিএসই (CSE) নিয়ে পড়াশোনা করা। তার এই লড়াই আমাদের শেখায়, অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাস থাকলে যেকোনো বাধাকে জয় করা সম্ভব।
আমরা সবাই রাফিদের সুস্থতা ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।